ইনফিনিটি গ্লোবাল পাওয়ার লিমিটেডের স্লোগানসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যা
লেখক, উদ্ভাবক ও ব্যাখ্যাকারী:
প্রিন্স মোহাম্মদ আবু সালেহ
চেয়ারম্যান, PSW Foundation ও Fortune Group of Industries Limited
১. “একটি স্বপ্ন, একটি গন্তব্য। আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে—ইনফিনিটি। ইনশাআল্লাহ।”
ইসলামিক ব্যাখ্যা
ইসলাম মানুষকে সৎ ও কল্যাণকর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করে। একজন মুমিন পরিকল্পনা করবে, বৈধ উপায়ে কঠোর পরিশ্রম করবে এবং চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। “ইনশাআল্লাহ” বলা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের ইচ্ছার ঊর্ধ্বে আল্লাহর ইচ্ছাই সর্বোচ্চ।
কুরআনের আলোকে
«”আর কখনো কোনো বিষয়ে বলো না, ‘আমি এটি আগামীকাল করব’— (এ কথা বলো না) ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা ছাড়া।”
— সূরা আল-কাহফ, ১৮:২৩–২৪»
«”যখন আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।”
— সূরা আলে ইমরান, ৩:১৫৯»
হাদিসের আলোকে
রাসূল ﷺ বলেছেন:
«”শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও উত্তম। … যা তোমার উপকারে আসে তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর এবং দুর্বল হয়ে পড়ো না।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬৪»
২. “আমরা সবাই সফল হব, আমি সেরা হব।”
ইসলামিক ব্যাখ্যা
এখানে “সেরা” হওয়ার অর্থ অন্যকে ছোট করা নয়; বরং তাকওয়া, সততা, আমানতদারিতা, জ্ঞান, চরিত্র ও মানবসেবায় উৎকর্ষ অর্জনের চেষ্টা করা। ইসলাম কল্যাণের কাজে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়।
কুরআনের আলোকে
«”তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর।”
— সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৪৮»
«”নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।”
— সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩»
হাদিসের আলোকে
রাসূল ﷺ বলেছেন:
«”মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”
— আল-মু’জামুল আওসাত (তাবারানী); হাদিসটি হাসান হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন।»
৩. “আমি পারব, আমাকে দিয়ে সম্ভব, আমি করে দেখাব, আমি এটা বিশ্বাস করি। ইনশাআল্লাহ।”
*ইসলামিক ব্যাখ্যা*
মুমিন কখনো হতাশ হয় না। সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে। তবে আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে পরিণত না হয়। সকল শক্তি ও সামর্থ্য আল্লাহরই দান।
*কুরআনের আলোকে*
«”নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।”
— সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৫–৬»
«”আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।”
— সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৮৬»
*হাদিসের আলোকে*
**রাসূল ﷺ বলেছেন:
«”শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম… যা তোমার উপকারে আসে তার জন্য চেষ্টা কর, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অক্ষম হয়ো না।”
— সহিহ মুসলিম, ২৬৬৪»
৪. “নূরে ইসলাম, আল্লাহু আকবার।”
*ইসলামিক ব্যাখ্যা*
“নূরে ইসলাম” ইসলামের আলো, সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবকল্যাণের প্রতীক। “আল্লাহু আকবার” অর্থ—আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই একজন মুসলিমের সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সম্পদ আল্লাহর মর্যাদার ঊর্ধ্বে নয়।
*কুরআনের আলোকে*
«”আল্লাহ আসমানসমূহ ও পৃথিবীর নূর।”
— সূরা আন-নূর, ২৪:৩৫»
«”বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্লাহর জন্য।”
— সূরা আল-আনআম, ৬:১৬২»
হাদিসের আলোকে
*রাসূল ﷺ বলেছেন:*
«”যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেন।”
— সহিহ মুসলিম»
Infinity Royal Force
ট্যাগলাইনঃ
“উঠে দাঁড়াও, শুরু করো, এগিয়ে যাও”
*ইসলামিক ব্যাখ্যা*
এই ট্যাগলাইন কর্ম, সাহস, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। ইসলাম অলসতাকে নিরুৎসাহিত করে এবং হালাল উপায়ে পরিশ্রম, আত্মউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণে অবদান রাখতে উৎসাহিত করে।
*কুরআনের আলোকে*
«”আর বলুন, তোমরা কাজ কর। অতঃপর আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ তোমাদের কাজ দেখবেন।”
— সূরা আত-তাওবা, ৯:১০৫»
«”অতঃপর যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদত ও কল্যাণকর কাজে) কঠোর পরিশ্রমে লেগে যাও। এবং তোমার রবের প্রতিই মনোনিবেশ কর।”
— সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৭–৮»
*হাদিসের আলোকে*
রাসূল ﷺ বলেছেন:
«”তোমাদের কেউ যদি একটি চারা গাছ হাতে থাকা অবস্থায় কিয়ামত এসে যায়, তবুও যদি সে তা রোপণ করতে পারে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।”
-মুসনাদ আহমাদ»
মূল দর্শন
– স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু তা হবে হালাল উদ্দেশ্যে।
– পরিশ্রম থাকবে, কিন্তু তা হবে সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে।
– আত্মবিশ্বাস থাকবে, কিন্তু অহংকার থাকবে না।
– সফলতার চেষ্টা থাকবে, কিন্তু চূড়ান্ত ভরসা থাকবে একমাত্র আল্লাহর ওপর।
*আল্লাহ তাআলা বলেন:*
«”যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।”
-সূরা আত-তালাক, ৬৫:২–৩»
